কোথায় এবং কখন এটা ঘটেছিল তা কেউ জানে না, তবে আমাদের শহরে একটা কিংবদন্তি প্রচলিত ছিল। বলা হত যে জঙ্গলে এক সত্যিকারের হরিণ ঘুরে বেড়াত। কিন্তু সে ছিল অসাধারণ। তার আত্মীয়দের থেকে ভিন্ন, সেই হরিণটি যেখানেই যেত সেখানে সোনার চিহ্ন রেখে যেত। সব শিকারীরা বিশ্বাস করত যে হরিণটি খাঁটি সোনায় ভর্তি।
লোকে বলত যে সে ছিল এক যুবক, যাকে তার লোভের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। নাকি সে এক জাদুকরের শেষ সম্পদ চুরি করেছিল, তার সোনার রাজদণ্ড নিয়ে গিয়েছিল। আর তার জন্য তাকে ভয়ানক বোঝা বহন করতে হয়েছিল: দুষ্ট জাদুকর তাকে হরিণে পরিণত করেছিল এবং তার পেট তার প্রিয় সোনার মুদ্রায় পুরোপুরি ভরে দিয়েছিল।
এটা সত্য না মিথ্যা তা জানা যায়নি, কিন্তু সত্য ছিল এই যে: দ্রুতগামী হরিণটি যেখানেই দৌড়ে যেত, সেখানে সোনা পড়ে থাকত। তাই প্রতিটি শিকারীর জন্য তাকে ধরা এবং মূল্যবান ধাতু বের করা ছিল সম্মানের বিষয়।
রহিমও পিছিয়ে থাকেনি। তাকে শহরের সেরা শিকারী বলে মনে করা হত: যে শিকার দেখাও না কেন, সে তা মারতে পারত। তার হিসাবে ছিল চটপটে খরগোশ এবং দ্রুতগামী পাখি। কিন্তু তা সত্ত্বেও, সেই শিকারী ছিল ন্যায়পরায়ণ। রহিম কখনো আহত পশুদের স্পর্শ করত না। সে শুধু সেই পশুদের শিকার করত যারা মানুষের ক্ষতি করত: ক্ষেত থেকে বাঁধাকপি চুরি করত, ফসল নষ্ট করত।
কিন্তু সে এমন প্রলোভন এড়াতে পারল না — সত্যিকারের সোনার হরিণ শিকার করা। বেশি চিন্তা না করে, সে তার কাঁধে বন্দুক তুলে নিয়ে জঙ্গলে গেল। সে শীঘ্রই হরিণটি খুঁজে পেল না, কয়েক ঘণ্টা ঘন জঙ্গলে ঘুরতে হল। কিন্তু অবশেষে সে একটা খোলা জায়গায় এসে পৌঁছাল, আর সেখানে দেখল — একটা হরিণ বসে আছে।
রহিম তার কাঁধে বন্দুক তুলল, কিন্তু হঠাৎ থেমে গেল। হরিণটি তার দিকে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল, কিন্তু নড়ল না — শুধু স্থির হয়ে কাঁদতে লাগল যেন। এত তীব্রভাবে, এত মানুষের মতো...
আর তখন শিকারী লক্ষ্য করল যে হরিণের পা সত্যিই সোনায় ঢাকা। সে সাবধানে পাশের গুঁড়িতে বন্দুক রাখল, যেন বলছে, দেখো, আমি তোমার কিছু করব না, পশুটির কাছে গেল এবং বুঝল কী ব্যাপার।
পশুটির পা আহত ছিল, এবং সেখান থেকে রক্ত নয় — খাঁটি সোনা ঝরছিল। পায়ে স্পর্শ করার চেষ্টা করল, আর হরিণটি আরও জোরে কাঁদতে লাগল। শিকারী মাথা চুলকাল, একটু ভাবল — এবং বলল:
ভয় পেও না, আমি তোমাকে সাহায্য করব, এমনই হোক।
সে খোলা জায়গা থেকে ঔষধি ঘাস তুলল, তার পোশাক থেকে একটা টুকরো ছিঁড়ে পশুটির পা বেঁধে দিল।
শীঘ্রই সেরে যাবে। এখন দৌড়ে যাও। আর আমার সামনে আর পড়ো না।
সে পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করল।
অবশ্যই, বাড়িতে রহিমকে কেউ বিশ্বাস করল না। শহরে বলল যে সে পশুটিকে ধরতে পারেনি। একটু গল্প করল — আর ভুলে গেল। কিন্তু বলা হয় যে সে তার দোরগোড়ায় সোনার পাহাড় পেয়েছিল। এটা সত্যি কিনা? কেউ বলতে পারবে না।