একদা আনিস নামে এক ছেলে ছিল। সে অন্য সব ছেলেদের মতোই ছিল — একটু দুষ্টু, চঞ্চল এবং হাসিখুশি। তবে সে সীমা জানত — মাকে সাহায্য করত, পড়াশোনা মনোযোগ দিয়ে করত, এবং মাঝে মাঝে নিজের কক্ষও পরিষ্কার করত।
কিন্তু আনিসের একটিমাত্র দুর্বলতা ছিল: সে তার খেলনাগুলোর একেবারেই মূল্য দিত না। বাবা-মা যা-ই কিনে দিত, সব ভেঙে যেত।
মা একটা বড় ট্রান্সফরমার এনে দিলে আনিস সেটা বেঞ্চে ভুলে যেত।
বাবা বিদেশি ট্যাংক কিনে দিলে ছেলেটা সাথে সাথে সেটা খুলে ফেলত এবং যন্ত্রাংশগুলো ফেলে দিত।
মা-বাবা যতই চেষ্টা করুক না কেন, আনিস খেলনাগুলোর প্রতি সম্মান দেখাত না। একদিন বাবা-মা এমনকি শুনলেন যে সে তার বন্ধুকে বলছে "আব্বু-আম্মু আমাকে আরও কিনে দেবে"।
এভাবেই ছেলেটা বড় হতো, যদি না একটা ঘটনা ঘটত। একদিন সকালে আনিস ঘুম থেকে উঠে তার খেলনার বাক্সে তাকাল — এবং সেখানে কিছুই পেল না। শুধু একটা পুরনো ট্রেন পড়ে ছিল, সোভিয়েত আমলের।
তখন আনিস ভয় পেয়ে গেল এবং মাকে ডাকল।
তোমার সব খেলনা চলে গেছে, আনিস।
মা দুঃখের সাথে মাথা নাড়লেন।
চলে গেছে? কোথায়?
সে অভিমানে নাক ঘষল এবং প্রায় কেঁদেই ফেলল। কিন্তু ছেলেদের কাঁদা উচিত নয়।
অন্য একটা ছেলের কাছে, যে তার খেলনাগুলোর যত্ন নেয়।
আর আমি কী করব?
কিন্তু মা শুধু কাঁধ ঝাঁকালেন এবং রান্নাঘরে যেতে যেতে বললেন:
ভুলগুলো নিজেকেই সংশোধন করতে হয়।
আনিস কক্ষে বসে ভাবল — এবং তার মাথায় একটা ধারণা এল। সে চুপিচুপি বাবার কর্মশালায় গেল এবং সেখান থেকে কয়েকটা রঙের টিউব ধার নিল। নিজের কার্পেটে বসে তুলি সাজিয়ে কাজ শুরু করল।
মাত্র একদিন কেটে গেল, কিন্তু ট্রেনটা একেবারে নতুনের মতো হয়ে গেল। আর কোথায় গেল সেই রঙ উঠে যাওয়া দিকগুলো। অবশ্য কার্পেট আর আনিসও রঙে ভরা ছিল, আর ছেলেটা ক্লান্তও হয়ে গিয়েছিল। সহজ কাজ নয় এটা — খেলনা মেরামত করা।
আর পরের দিন স্কুল থেকে ফিরে ছেলেটা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারল না। তার কক্ষের বিছানায় একটা রোবট পড়ে আছে! আনিস আনন্দে খেলনার বাক্সের কাছে ছুটে গেল, আর সেটা আবার ভরা।
তারপর থেকে সে আর কখনো খেলনা ভাঙল না বা হারাল না। আর যা ভুলবশত ভেঙে যেত, বাবার সাহায্যে সবসময় সারিয়ে নিত।